ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম
শব্দের মধ্যে ধ্বনির পরিবর্তন চার রকমভাবে ঘটে থাকে। সেগুলি হল-
১) ধ্বনির আগম
২) ধ্বনির লোপ
৩) ধ্বনির রূপান্তর
৪) ধ্বনির স্থানান্তর
যেহেতু বাংলা ধ্বনি দুই প্রকারের স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি, তাই এই চার প্রকারের পরিবর্তন দুই ধ্বনির মধ্যেই অর্থাৎ স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়।
এখন আমরা আলোচনা করব ধ্বনির আগম সম্পর্কে-
ক)স্বরধ্বনির ক্ষেত্রে বলা হয় স্বরাগম।
খ)ব্যঞ্জনধ্বনির ক্ষেত্রে বলা হয় ব্যঞ্জনাগম।
প্রথমেই আলোচনা করব স্বরাগম সম্পর্কে।
ক) স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের মধ্যে যখন অতিরিক্ত স্বরধ্বনির শব্দের মধ্যে যখন অতিরিক্ত স্বরধ্বনির মধ্যে যখন অতিরিক্ত স্বরধ্বনির আগমন ঘটানো হয় তখন তাকে বলা হয় স্বরাগম।
উদাহরণ: রত্ন> রতন, বেঞ্চ >বেঞ্চি।
স্বরাগম কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়
১)আদি স্বরাগম ২) মধ্যস্বরাগম ৩) অন্ত্য স্বরাগম
১)আদি স্বরাগম:
বাংলা শব্দের শুরুতে যদি যুক্তব্যঞ্জন থাকে তাহলে উচ্চারণ করতে কিছুটা কষ্ট হয়।এই ক্ষেত্রে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সুবিধার জন্য উচ্চারণের সুবিধার জন্য সুবিধার জন্য আমরা শব্দের শুরুতেই একটি স্বরধ্বনির আগমন ঘটিয়ে উচ্চারণ করি সহজভাবে,একেই বলা হয় আদি স্বরাগম।
উদাহরণ: স্কুল >ইস্কুল, স্টেবল >আস্তাবল,
স্পর্ধা> আস্পর্ধা।
২) মধ্যস্বরাগম:
শব্দের মধ্যে থাকা যুক্ত ব্যঞ্জন এর উচ্চারণকে আরো সহজ ভাবে উচ্চারণ করার জন্য উচ্চারণ করার জন্য ভাবে উচ্চারণ করার জন্য উচ্চারণ করার জন্য আমরা যুক্ত ব্যঞ্জন এর মধ্যে একটি স্বরধ্বনির আগমন স্বরধ্বনির এর মধ্যে একটি স্বরধ্বনির আগমন মধ্যে একটি স্বরধ্বনির আগমন স্বরধ্বনির আগমন ঘটিয়ে উচ্চারণ করি,একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম।
উদাহরণ: জন্ম >জনম, ভক্তি >ভকতি ,
মুক্তা> মুকুতা।
৩) অন্ত্য স্বরাগম::
বাংলা ভাষায় শব্দের শেষে একটা স্বরধ্বনির উচ্চারণ এর প্রবণতা প্রবণতা এর প্রবণতা প্রবণতা আমাদের মধ্যে দেখা যায়, শেষে যুক্তব্যঞ্জন থাক বা একক ব্যঞ্জন থাক। শব্দের শেষে বা অন্তে এই স্বরধ্বনির আগমন কে বলা হয় অন্ত্য স্বরাগম।
উদাহরণ: দুষ্ট > দুষ্টু ,বেঞ্চ> বেঞ্চি, ইঞ্চ >ইঞ্চি।
খ) ব্যঞ্জনাগম:
বাংলা ভাষায় শব্দের মধ্যে উচ্চারণের সুবিধার জন্য,আরো সহজভাবে উচ্চারণ করার জন্য যদি ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন আগমন ঘটানো হয় তখন তাকে বলা হয় ব্যঞ্জনাগম।
ব্যঞ্জনাগম কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়-
১) আদি ব্যঞ্জনাগম ২)মধ্য ব্যঞ্জনাগম ৩)অন্ত্য ব্যঞ্জনাগম
১)আদি ব্যঞ্জনাগম:
শব্দের শুরুতে যদি ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন ঘটে তখন তাকে বলা হয় আদি ব্যঞ্জনাগম।
বাংলা ভাষায় শব্দের শুরুতে শব্দের শুরুতে ব্যঞ্জনাগম খুব একটা দেখা যায়না। বাংলা ভাষায় যেসব শব্দ শুরু হয় স্বরধ্বনি দিয়ে শুধুমাত্র সেই সব ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে আদি ব্যঞ্জনাগম লক্ষ্য করা যায়।
উদাহরণ: ঋজু >উজু >রুজু, উপকথা>রূপকথা।
২) মধ্য ব্যঞ্জনাগম:
বাংলা ভাষায় শব্দের মধ্যে যখন উচ্চারণের সুবিধার জন্য ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন ঘটে তখন তাকে মধ্য ব্যঞ্জনাগম বলা হয়।
উদাহরণ: বানর >বান্দর।
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনি উচ্চারণের কালে উচ্চারণের অসতর্কতার জন্য বাস্তুতে মাধুর্যের জন্য যখন ওই দুটি ধ্বনির মাঝখানে একটি তৃতীয় ধোনির আগমন ঘটে তখন ধ্বনি পরিবর্তনের এই নিয়মকে শ্রুতিধ্বনি বলা হয়।
শব্দের মাঝখানে যে ব্যঞ্জনধ্বনি গুলি যুক্ত হয় সেই ব্যঞ্জনধ্বনি গুলির নাম অনুসারে শ্রুতিধ্বনির নামকরণ করা হয়।যেমন- য় শ্রুতি,দ শ্রুতি,ব শ্রুতি,অন্তস্থ-ব শ্রুতি,হ শ্রুতি।
উদাহরণ: বানর >বান্দর >বাঁদর,
লৌহ >নোআ> নোয়া,
ভায়োলা >বেআলা >বেহালা,
৩) অন্ত্য ব্যঞ্জনাগম:
বাংলা ভাষায় শব্দের শেষে যদি ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যঞ্জনধ্বনির শব্দের শেষে যদি ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন ঘটে তখন তাকে বলা হয় অন্ত ব্যঞ্জনাগম।সাধারণত দেখা যায় শব্দের শেষে "ন" ধ্বনির আগমন ঘটে।
উদাহরণ: খোকা> খোকন, জমি >জমিন,
নানা >নানান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন