শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

ধ্বনি লোপ এর শ্রেণীবিভাগ

                  ধ্বনি লোপ এর শ্রেণীবিভাগ
বাংলা ভাষায় শব্দের মধ্যে থেকে কোন ধ্বনি যদি লুপ্ত হয়ে যায় তখন তাকে বলা হয় ধ্বনি লোপ।
সহজ ভাবে উচ্চারণ করা, দ্রুত উচ্চারণ, শ্বাসাঘাত ,অসাবধানতা ,বাগ যন্ত্রের ত্রুটি এইসব বিভিন্ন কারণে ধ্বনি লোপ হয়ে থাকে।
ধ্বনি লোপ দুই প্রকার-
ক) স্বরধ্বনি লোপ
খ) ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ
স্বরধ্বনি লোপ:
উচ্চারণ দ্রুত উচ্চারণ অসাবধানতা বাকযন্ত্রের ত্রুটি এইসব বিভিন্ন কারণে যখন কোন শব্দ থেকে স্বরধ্বনি লুপ্ত হয়ে যায় তখন তাকে স্বরধ্বনির লোপ বলে।
একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়-
১) আদি স্বরলোপ
২) মধ্য স্বরলোপ
৩) অন্ত‍্য স্বরলোপ

১) আদি স্বরলোপ:
শব্দের আদি থেকে বা প্রথম থেকে যদি কোন স্বরধ্বনি লুপ্ত হয়ে যায় তখন তাকে আদি স্বরলোপ বলা হয়।
বা এভাবে বলা যেতে পারে, যদি শব্দের গোড়ায় শ্বাসাঘাত না থেকে শব্দের মাঝখানে কোন ধ্বনি তে শ্বাসাঘাত পরে তাহলে শব্দের প্রথমে যে স্বরধ্বনি টি থাকে সেটির উচ্চারণ ক্ষীণ হতে হতে পরবর্তীতে লুপ্ত হয়ে যায়, একে বলা হয় আদি স্বরলোপ।
উদাহরণ: অলাবু> লাউ, অতসী> তিসি,
আছিল> ছিল।
২) মধ্যস্বরলোপ:
সামনের মাঝখান থেকে যদি কোন স্বরধ্বনি লুপ্ত হয়ে যায় তখন তাকে মধ্যস্বরলোপ বলা হয়।
আবার এভাবেও বলা যেতে, পারে শব্দের আদি ধ্বনিতে শ্বাসাঘাত পড়লে শব্দের মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনির উচ্চারণ ক্ষীণ হতে হতে ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যায় ,একে বলা হয় মধ্যস্বরলোপ।
উদাহরণ: ভগিনী >ভগ্নি, কলিকাতা> কলকাতা, গামছা >গামছা।
৩) অন্ত‍্য স্বরলোপ:
শব্দের শেষ থেকে কোনো স্বরধ্বনি লুপ্ত হয়ে  গেলে তখন তাকে বলা হয় অন্ত‍্য স্বরলোপ।
বা এভাবে বলা যেতে পারে,আমরা শব্দের শুরুতে যতটা শ্বাসের জোর দিই শব্দের শেষ পর্যন্ত অতটা দিইনা।ফলে শেষের স্বরোধবনীতি লুপ্ত হয়ে যায় ক্রমশ।একেই অন্ত‍্য স্বরলোপ বলা হয়।
উদাহরণ: রাশি >রাশ, মনুষ্য >মানুষ,অগ্র >আগ্।
খ) ব্যঞ্জন ধ্বনি লোপ:
যে প্রক্রিয়ায় শব্দ থেকে ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হয়ে যায় তাকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ বলা হয়।
ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়-
১)আদি ব্যঞ্জন লোপ
২) মধ্য ব্যঞ্জন লোপ
৩) অন্ত‍্য ব্যঞ্জন লোপ

১) আদি ব্যঞ্জন লোপ:
শব্দের আদি প্রথম থেকে ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি ব্যঞ্জন লোপ বলা হয়।
উদাহরণঃ স্থান >থান, শ্রাবণ> শাওন ,রস >অস।

২) মধ্যব্যঞ্জন লোপ:
শব্দের মাঝখান থেকে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলা হয় মধ্য ব্যঞ্জন লোপ।
উদাহরণঃ ফলাহার> ফলার, কার্পাস >কাপাস, ফাল্গুন >ফাগুন।
৩) অন্ত‍্য ব্যঞ্জনলোপ:
শব্দের অন্ত বা শেষ থেকে যখন কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হয়ে যায় তখন তাকে অন্ত‍্য ব্যঞ্জন লোপ বলা হয়।
উদাহরণ: দধি> দই, সখি >সই, আম্র >আম।

এছাড়াও ধ্বনি লোপের  আরেকটি প্রক্রিয়া আছে,সেটি হল সমাক্ষর লোপ
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি একই ধ্বনি একাধিকবার থাকলে বা সমধ্বনি থাকলে সেই সমধ্বনির কোন একটি অক্ষর যদি লুপ্ত হয়ে যায় তাহলে তাকে সমাক্ষর লোপ বলা হয়।
উদাহরণঃ বড় দাদা >বড়দা, পাদোদক> পাদোক, পটললতা >পলতা।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন